মালিকরা এতদিন কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছে। লক ডাউনে মুর্শিদাবাদের দশ লক্ষ বিড়ি শ্রমিকের একমাসের দ্বায়িত্ব নিকঃ এ আই ইউ টি ইউ সি

      ভারতে করোনা ভাইরাসের গতি রোধ করতে ২১ দিনের লক ডাউন ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। এতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে দিন মজুর, শ্রমজীবী মানুষ। দিন আনা দিন খাওয়া এই শ্রমজীবীদের পাশে সরকারের কোন আশাব্যঞ্জক কোন অর্থ বরাদ্দ নেই । রাজ্য সরকার এক হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষনা করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। এমতাবস্থায় সারা দেশের সাথে মুর্শিদাবাদ জেলার প্রায় ১০ লক্ষ বিড়ি শ্রমিক কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির দিকে বড় আশা নিয়ে চেয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্র সরকার চরম হতাশ করে শ্রমিকদের। 
   
     দেশের বিড়ি শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে শুরু থেকে আন্দোলন করে আসা এ আই ইউ টি ইউ সির নেতৃত্ব বিড়ি শ্রমিকদের বর্তমানের এই চরম সঙ্কটের  কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেয়।বিড়ি ওয়ার্কার্স এন্ড এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের  এবং এ আই ইউ টি ইউ সি জেলা সম্পাদক আনিসুল আম্বিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিড়ি মালিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 
ছবি গণদাবী ওয়েব সাইট থেকে গৃহীত 

     তিনি বলেন " লক ডাউন চলছে। বিড়ি মালিকরা কারখানা বন্ধ করেছেন। জঙ্গীপুর সহ মুর্শিদাবাদ জেলার প্রায় দশ লক্ষ বিড়ি শ্রমিকের কাজ বন্ধ। এরা সকলেই দিন মজুর। মালিকেরা এতদিন এদের শ্রম বাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছেন। আগামি অন্তত একমাস একটু হাত ধোয়ার সাবান এবং দুমুঠো খাবারের দায়িত্ব কি তারা নিতে পারতেন না? তাদের মুন্সীরা সকল বিড়ি শ্রমিকদের জানে,চেনে।

     বিড়ি শিল্পের GST থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই আয় বাড়িয়েছে। এই দুর্দিনে সেই টাকা কি বিড়ি শ্রমিকদের পরিবারের জন্য কিছু খরচ করা যায় না? এটাই এই সময় আমাদের দাবি। এদেশে 95% অসংগঠিত শ্রমিক। এদের দায়িত্ব কার? সরকারি কোষাগারের টাকায় এদের অধিকার তো ন্যায়সংগত। আমাদের দাবি এই যে এই সঙ্কটপূর্ণ সময়ে এই শ্রমিকদের বেঁচে থাকার নূন্যতম আর্থিক দায়িত্ব কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নিক। অবিলম্বে এই মর্মে উপযুক্ত সরকারি ঘোষণা চায়।"

No comments

Powered by Blogger.