বেসরকারিকরণের পর পুনরায় ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ড ২০১৫ সালে আর্জেন্টিনা রেল জাতীয়করণ করে

       ১৯৯১ সালে ভারতের অর্থনীতিতে উদারিকরণের নীতি গ্রহণের পর সরকার পরিচালিত সংস্থাগুলি বেসরকারী কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তৎকালীন কংগ্রেস সরকার সেই নীতি প্রয়োগ করার উদ্দেশ্যে জাতীয় সংস্থাগুলিকে অলাভজনক করা শুরু করে। সরকারী সংস্থাগুলিকে পরিচালনা ব্যবস্থ্যা ভেঙে দিতে শূন্য পদে নিয়োগ প্রায় বন্ধ করে দেয়। যন্ত্রের আধুনিকরণ একেবারে থামিয়ে দেয়। শ্রমিকরা সরকারী সংস্থাকে বাঁচানোর জন্য শারীরিক এবং বৌদ্ধিক পরিশ্রম করতে চাইলেও সরকার চেয়েছে লাভজনক সংস্থাকে অলাভজনক করতে।
ছবি অন্তরজাল থেকে সংগৃহীত 

     যেমন BSNL এর কর্মীরা 3G প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য দুইবার ধর্মঘট করে। সরকার আন্দোলন যাতে দীর্ঘস্থায়ী রুপ না পায় তার জন্য BSNLএর কর্মীদের দাবী মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।কিন্তু দেখা গেছে নতুন বাজেটে সেই 2G  প্রযুক্তিই বরাদ্দ রেখেছে।  আজ BSNL অলাভজনক ভাবে ধুঁকতে ধুঁকতে চলছে। এবং একে বিক্রির প্রক্রিয়ায় বর্তমান। 
  
   এদিকে সংবাদ মাধ্যম জনমানসে এটা গড়ে দিতে সক্ষম হয়েছে যে সরকারী কোম্পানী ভালো পরিষেবা দিতে পারে না । ভালো পরিষেবা পেতে গেলে বেসরকারী সংস্থায় যেতে হবে। তাই সরকারী সংস্থা বেসরকারিকরণ করায় ভালো। 
  
      ভারতীয় রেল হল সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র । সেই রেলকেই কোটি কোটি দুর্নীতির শিকার হলেও এখনো লাভজনক। ৪ঠা অক্টোবর ২০১৯ এ লক্ষ্ণৌ থেকে দিল্লী রুটে এবং ১৯শে জানুয়ারী ২০২০ আমেদাবাদ থেকে মুম্বই সেন্ট্রাল রুটে বেসরকারী ট্রেন তেজস চলে । এখন ১০০ টি রুট এবং ১৫০টি ট্রেন বেসরকারী কোম্পানীর হাতে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।  ভারতীয় রেল ব্যবস্থার পুরোটায় নরেন্দ্র মোদি আমলেই বেসরকারীকরণ সম্পন্ন হবে। 
       রেল বেসরকারীকরণের পর পুনরায় জাতীয় করণও করতে সরকার বাধ্য হয়েছে পরিবহণ শিল্পকে সস্তা ও সুলভ রাখতে। ১৯৮০ সালে নিউজিল্যান্ড রেল বেসরকারীকরণ করে সরকারী ব্যয় কমানো ও ভালো পরিষেবার নামে।  কিন্তু শেষ পর্যন্ত গণপরিবহন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে এবং বেসরকারী রেল কোম্পানি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ফলে ২০০৮ সালে নিউজিল্যান্ড সরকার পুনরায় রেলকে অধিগ্রহণ করে । ২০১৫ সালে আর্জেন্টিনাকেও রেলকে পুনরায় অধিগ্রহণ করতে হয়। 

No comments

Powered by Blogger.